নীলফামারীতে কালবৈশাখীর তান্ডব, দুই শতাধিক বাড়ীঘড় ক্ষতিগ্রস্ত, ৩৮ হেক্টর জমির ফসলহানী, বিদ্যুৎ বিভ্রাট
- আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জের ৪টি ইউনিয়নে মঙ্গলবার মধ্যরাতে কালবৈশাখীর তান্ডবে দুই শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়াসহ ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকালেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্য ছিল।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বৃষ্টির সাথে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে জলঢাকা উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়াসহ ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকালেও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্য ছিল। কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৪ টি ওয়ার্ডের ১ শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। হেলে পড়েছে প্রায় ২ শত ঘর বাড়ি। এছাড়া ২ শত হেক্টর ভুট্টা খেত সম্পূর্ণ হেলে পড়াসহ অসংখ্য গাছগাছালি হেলে পড়েছে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বৈশাখীঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে ঘরের চালা উড়ে যায়, গাছ ভেঙ্গে ঘরের উপর পড়ে। এতে হতাহত না হলেও বাড়ি ঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পুটিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সায়েম জানান, ইউনিয়নের ১, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া হেলে পড়েছে অসংখ্যা ঘরবাড়ি। প্রায় ২ শত হেক্টর ভুট্টা খেত হেলে পড়ে নষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা জানান, ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়াসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি হেলে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার লোকমান আলম জানান, উপজেলায় ১ শত ৫০ হেক্টর জমির ভুট্টা খেত হেলে পড়েছে। তবে ১২ হেক্টর জমির ভুট্টা খেত নষ্টের আশংকা করা হচ্ছে। অন্যান্য ইউনিয়নেও ভুট্টা খেত হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান জানান, প্রায় ৪০টি পরিবারের ৮০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘড় বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার তালিকা ও ক্ষতি নিরুপণে মাঠে কাজ করা হচ্ছে।
জলঢাকা উপজেলায় একই সময়ে খুটামারা, ধর্মপাল ও গোলনা ইউনয়নে ঝড়ের তান্ডব বয়ে যায়। এতে প্রায় শতাধিক বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে ২৬ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জলঢাকা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে শুধুমাত্র ভুট্টা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হেলে পড়া ভুট্টার তেমন ক্ষতি হবে না। জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার নাহিদুজ্জামান জানান, প্রায় শতাধিক বাড়ীঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে। আগামী ১ দিনে আমাদের হাতে চুড়ন্ত রিপোর্ট আসবে।
ঝড়ের কবলে পরে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কিশোরগঞ্জ নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে যাওয়ার কারণে মোজাম্মেল এন্ড সন্স ফিলিং ষ্টেশন থেকে পর পর ৪টি পিলারের বৈদ্যুতিক তার চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ১০টি পিলার হেলে পরে। এ কারণে কিশোরগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি। তবে কিশোরঞ্জের অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ আছে।







.gif)


