সৈয়দপুর ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আপিলের রায় আজ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেস্ক রিপোর্টঃ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর আজ রায় দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের মধ্য দিয়ে জানা যাবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদৌ ফিরছে কি না, ফিরলেও কী আঙ্গিকে ফেরবে, কবে থেকে ফেরবে। ১১ নভেম্বর শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। সে অনুযায়ী রায় ঘোষণার জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ১ ও ২ নম্বরে রাখা হয়েছে দুটি আপিল ও আবেদন।

এ রায় কে ঘিরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের প্রত্যাশা, চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সম্ভাব্য কার্যকারিতা রেখে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। সেরকম রায় হলে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে কাঙ্ক্ষিত এই সরকারব্যবস্থা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন অগণতান্ত্রিক এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিলযোগ্য। তবে প্রয়োজনের নিরিখে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এই রায় ঘোষণার সাত দিন পর অর্থাৎ ১৭ মে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। পরে এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে পরপর তিনিটি নির্বাচনের আয়োজন করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছর ২৭ আগস্ট সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি ১৪ বছর আগের সেই বিতর্কিত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। পরে ১৭ অক্টোবর আবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পাঁচ দিন পর ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাছাড়াও আরেকটি আবেদন করেন নওগাঁর রানীনগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

পরবর্তীতে আরও দুটি আবেদন করা হয়। এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি নামের একটি সংগঠন রিভিউ আবেদন করে। সেন্টার ফর ল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি নামের একটি সংগঠনও এ মামলায় ইন্টারভেনার (পক্ষ) হিসেবে যুক্ত হয়।

এসকল আবেদনে আপিল করার অনুমতি দিয়ে আপিল শুনানি হবে, নাকি রিভিউ আবেদনেই চূড়ান্ত শুনানি হবে, এ নিয়ে দুই দিন শুনানির পর গত ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত জানান। ছয়টি আবেদনের মধ্যে একটি আবেদনে আপিলের অনুমতি দিয়ে চারটি আবেদন এর সঙ্গে যুক্ত করে দেন আপিল বিভাগ। অন্য আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (আইট অব লিস্ট) দিয়ে শুনানির জন্য রেখেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ অক্টোবর থেকে শুনানি শুরু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আপিলের রায় আজ

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্টঃ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর আজ রায় দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের মধ্য দিয়ে জানা যাবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদৌ ফিরছে কি না, ফিরলেও কী আঙ্গিকে ফেরবে, কবে থেকে ফেরবে। ১১ নভেম্বর শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। সে অনুযায়ী রায় ঘোষণার জন্য আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ১ ও ২ নম্বরে রাখা হয়েছে দুটি আপিল ও আবেদন।

এ রায় কে ঘিরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের প্রত্যাশা, চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সম্ভাব্য কার্যকারিতা রেখে আপিল মঞ্জুর করে রায় দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। সেরকম রায় হলে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে কাঙ্ক্ষিত এই সরকারব্যবস্থা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন অগণতান্ত্রিক এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিলযোগ্য। তবে প্রয়োজনের নিরিখে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এই রায় ঘোষণার সাত দিন পর অর্থাৎ ১৭ মে অবসরে যান। অবসরে যাওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। পরে এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে পরপর তিনিটি নির্বাচনের আয়োজন করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছর ২৭ আগস্ট সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি ১৪ বছর আগের সেই বিতর্কিত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন। পরে ১৭ অক্টোবর আবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পাঁচ দিন পর ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাছাড়াও আরেকটি আবেদন করেন নওগাঁর রানীনগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন।

পরবর্তীতে আরও দুটি আবেদন করা হয়। এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি নামের একটি সংগঠন রিভিউ আবেদন করে। সেন্টার ফর ল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিসি নামের একটি সংগঠনও এ মামলায় ইন্টারভেনার (পক্ষ) হিসেবে যুক্ত হয়।

এসকল আবেদনে আপিল করার অনুমতি দিয়ে আপিল শুনানি হবে, নাকি রিভিউ আবেদনেই চূড়ান্ত শুনানি হবে, এ নিয়ে দুই দিন শুনানির পর গত ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত জানান। ছয়টি আবেদনের মধ্যে একটি আবেদনে আপিলের অনুমতি দিয়ে চারটি আবেদন এর সঙ্গে যুক্ত করে দেন আপিল বিভাগ। অন্য আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (আইট অব লিস্ট) দিয়ে শুনানির জন্য রেখেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ অক্টোবর থেকে শুনানি শুরু হয়।