সৈয়দপুর ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, কালো বাজারে বেশী মুল্যে বিক্রি

ফজল কাদির
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১০৩ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গত কয়েকদিন ধরে নীলফামারী জেলার অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ যানবাহন মালিকদের। তবে কালোবাজারে বেশী মুল্য তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেয়ার পরেও জেলার দু একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকগন এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করায় জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকে রাত অবধি মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। জ্বালানি তেলের দাবিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করছেন।

​জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাই নি। এখানে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, শুনেছি ১০০ টাকার তেল দিবে। এতে কি চলবে!”

​ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া বলেন, “গত দুই দিন ধরে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। আজ এখানে এসেছি শুনলাম ১০০ টাকার তেল পাওয়া যাবে। তবুও আশায় দাঁড়িয়ে আছি।”

​এ অবস্থায় ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষ দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

জ্বালানী তেলের এ সংকট সৃষ্টির পিছনে পাম্প মালিকদের অব্যাবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। কেননা জেলার পাম্প মালিকগন ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্স বিহীন খুচরা দোকানগুলোতে ড্রাম, জারকিন বা অন্য পন্থায় বিক্রি করতে বেশী উৎসাহী এবং রাতের আধারে তাদের কাছে বিক্রি করছেন। এসব খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ২ শত টাকা দরে। পাম্প মালিকদের সংগৃহীত অধিকাংশ তেল এভাবেই কালোবাজারে বিক্রি হওয়ায় সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।

​জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তবে একটি পাম্পের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের এখানে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা থাকলেও পেট্রোল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।”

​জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছে কৃষি কাজও। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানান। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবী, “জ্বালানি তেলের সংকট সম্পর্কে আমরা অবগত। ডিপোর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। খুব শীঘ্রই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক শামসুল ইসলাম জানান, আমরা সংকট নয় দামের বিষয়টা দেখি, কেউ দাম বেশি নিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া ঈদের ছুটি থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, তেলের কোন সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, সরকার রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিয়েছে। কালোবাজারিদের ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


নীলফামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, কালো বাজারে বেশী মুল্যে বিক্রি

আপডেট সময় : ০১:২৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গত কয়েকদিন ধরে নীলফামারী জেলার অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ যানবাহন মালিকদের। তবে কালোবাজারে বেশী মুল্য তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেয়ার পরেও জেলার দু একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকগন এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করায় জনমনে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকে রাত অবধি মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড় লেগে আছে। জ্বালানি তেলের দাবিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করছেন।

​জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাই নি। এখানে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, শুনেছি ১০০ টাকার তেল দিবে। এতে কি চলবে!”

​ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া বলেন, “গত দুই দিন ধরে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। আজ এখানে এসেছি শুনলাম ১০০ টাকার তেল পাওয়া যাবে। তবুও আশায় দাঁড়িয়ে আছি।”

​এ অবস্থায় ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষ দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

জ্বালানী তেলের এ সংকট সৃষ্টির পিছনে পাম্প মালিকদের অব্যাবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। কেননা জেলার পাম্প মালিকগন ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্স বিহীন খুচরা দোকানগুলোতে ড্রাম, জারকিন বা অন্য পন্থায় বিক্রি করতে বেশী উৎসাহী এবং রাতের আধারে তাদের কাছে বিক্রি করছেন। এসব খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ২ শত টাকা দরে। পাম্প মালিকদের সংগৃহীত অধিকাংশ তেল এভাবেই কালোবাজারে বিক্রি হওয়ায় সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।

​জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তবে একটি পাম্পের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের এখানে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা থাকলেও পেট্রোল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।”

​জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছে কৃষি কাজও। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানান। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সরকারি কর্মকর্তাদের দাবী, “জ্বালানি তেলের সংকট সম্পর্কে আমরা অবগত। ডিপোর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। খুব শীঘ্রই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক শামসুল ইসলাম জানান, আমরা সংকট নয় দামের বিষয়টা দেখি, কেউ দাম বেশি নিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া ঈদের ছুটি থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, তেলের কোন সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, সরকার রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিয়েছে। কালোবাজারিদের ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।