সৈয়দপুর ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবশেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসলেন মোকসেদ আলী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২ ১৩ বার পড়া হয়েছে

মোকসেদ আলী

চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মোঃ নুরনবী ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দু’শিক্ষক পক্ষের ধাওয়া পাল্টা, মারামারি, অফিস কক্ষের তালা ভাঙ্গা এবং মানববন্ধন শেষে স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করে চেয়ারে বসলেন সিনিয়র শিক্ষক মোকসেদ আলী।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মন্টু ইসলাম। কিন্তু সেই সময় থেকে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী। পরে তিনি নিজেকে প্রধান হিসেবে দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে এবং তাঁর পক্ষে রায় পায়। রায়ের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ জিপির মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষক উপস্থিতি পত্রে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিলে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে মন্টু আলী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করলে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য রায় দেন। এরমধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ৬ মাসের জন্য এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান পারভেজকে সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্যের এডহক কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির ক্ষমতাবলে আসলাম আলী গত মাসে অবসরে যাওয়ার সময় আরেক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়। যদিও ঐ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক এই কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলী প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ড ও ধাওয়া-পাল্টা ও মারামারি হয়। পরে সে বিষয় গুলো নিয়ে মানববন্ধন শেষে দু’পক্ষের  মধ্যে মামলার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয় সাংসদ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির হস্তক্ষেপে গত ৩০ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে সিনিয়র শিক্ষক মোকসেদ আলীকে প্রধানের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।
এ বিষয়ে মন্টু আলী বলেন, মহামাণ্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী জিপির মতামত আমার পক্ষে রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা ভুল ব্যাখ্যা করে আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে মোকসেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেন। আমি আইনিভাবে লড়াই করব।
তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোকসেদ আলী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কুলের সুস্থ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ঠিক ভাবে করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক অফিস, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, স্থানীয় সাংসদের পরামর্শে মহামাণ্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে হাইকোর্টের রিট আদেশ অনুযায়ী মোকসেদ আলীর সাথে দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


অবশেষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসলেন মোকসেদ আলী

আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২
মোঃ নুরনবী ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দু’শিক্ষক পক্ষের ধাওয়া পাল্টা, মারামারি, অফিস কক্ষের তালা ভাঙ্গা এবং মানববন্ধন শেষে স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করে চেয়ারে বসলেন সিনিয়র শিক্ষক মোকসেদ আলী।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মন্টু ইসলাম। কিন্তু সেই সময় থেকে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী। পরে তিনি নিজেকে প্রধান হিসেবে দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে এবং তাঁর পক্ষে রায় পায়। রায়ের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ জিপির মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষক উপস্থিতি পত্রে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিলে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে মন্টু আলী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করলে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য রায় দেন। এরমধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ৬ মাসের জন্য এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান পারভেজকে সভাপতি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্যের এডহক কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির ক্ষমতাবলে আসলাম আলী গত মাসে অবসরে যাওয়ার সময় আরেক সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়। যদিও ঐ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক এই কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় গত ২৫ অক্টোবর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলী প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ড ও ধাওয়া-পাল্টা ও মারামারি হয়। পরে সে বিষয় গুলো নিয়ে মানববন্ধন শেষে দু’পক্ষের  মধ্যে মামলার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয় সাংসদ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির হস্তক্ষেপে গত ৩০ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে সিনিয়র শিক্ষক মোকসেদ আলীকে প্রধানের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।
এ বিষয়ে মন্টু আলী বলেন, মহামাণ্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী জিপির মতামত আমার পক্ষে রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা ভুল ব্যাখ্যা করে আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে মোকসেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেন। আমি আইনিভাবে লড়াই করব।
তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোকসেদ আলী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কুলের সুস্থ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ঠিক ভাবে করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক অফিস, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, স্থানীয় সাংসদের পরামর্শে মহামাণ্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে হাইকোর্টের রিট আদেশ অনুযায়ী মোকসেদ আলীর সাথে দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।