সৈয়দপুর ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খানসামায় ৫২ বছরেও সংরক্ষণ হয়নি বধ্যভূমি, শহীদদের স্মরণে গাছে শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমির গাছের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে শহীদ পরিবার, খানসামা ডিগ্রি কলেজ ও স্থানীয়রা। এর আগে গত ৯ বছর ধরে সেখানে অস্থায়ী বাঁশের বেড়ার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানালেও তা নদীতে বিলীন হওয়ায় এ বছর সেখানে অবস্থিত গাছে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টায় খানসামা ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে পুলহাট ইছামতী নদীর তীরে অসংরক্ষিত বধ্যভূমিতে জাতীয় বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সদস্য বাবু অমিয় কুমার গুহ, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া টেডি ডাক্তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী খুট্টু মিয়াকে পুলহাটে ইছামতি নদীর ধারে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় পাকবাহিনী। পরে স্থানীয় তরনী কান্ত, নজরুল ইসলামসহ অনেকে তাদের লাশ নদী থেকে তুলে সেখানে কবর দেন।

শহীদদের উদ্ধার করে কবর দেওয়া নজরুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে অমিয় বাবু, টেডি ডাক্তার, খুট্টু মিয়াসহ কয়েকজনকে এখানে হত্যা করা হয়। সেই স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। কিন্তু এই স্মৃতিময় স্থান সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ নেই। যা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক।

অমিয় কুমার গুহের দৌহিত্র্য উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ গুহ জানান, গণকবর সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার হিসেবে আমাদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর অনুরোধ রইলো।

খানসামা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মাত‍ৃভূমিকে হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ৩টি বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেকে খানসামা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জ‍ানাতে এই বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণ ও সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে খানসামা  উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আত্রাই নদীর পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন শেষে উপজেলা সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, এসিল্যান্ড মারুফ হাসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দিন লুহিন শাহ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ওসি মোজাহারুল ইসলাম, সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ সহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


খানসামায় ৫২ বছরেও সংরক্ষণ হয়নি বধ্যভূমি, শহীদদের স্মরণে গাছে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আপডেট সময় : ১০:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমির গাছের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে শহীদ পরিবার, খানসামা ডিগ্রি কলেজ ও স্থানীয়রা। এর আগে গত ৯ বছর ধরে সেখানে অস্থায়ী বাঁশের বেড়ার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানালেও তা নদীতে বিলীন হওয়ায় এ বছর সেখানে অবস্থিত গাছে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টায় খানসামা ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে পুলহাট ইছামতী নদীর তীরে অসংরক্ষিত বধ্যভূমিতে জাতীয় বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সদস্য বাবু অমিয় কুমার গুহ, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া টেডি ডাক্তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী খুট্টু মিয়াকে পুলহাটে ইছামতি নদীর ধারে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় পাকবাহিনী। পরে স্থানীয় তরনী কান্ত, নজরুল ইসলামসহ অনেকে তাদের লাশ নদী থেকে তুলে সেখানে কবর দেন।

শহীদদের উদ্ধার করে কবর দেওয়া নজরুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অমানবিক ভাবে নির্যাতন করে অমিয় বাবু, টেডি ডাক্তার, খুট্টু মিয়াসহ কয়েকজনকে এখানে হত্যা করা হয়। সেই স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। কিন্তু এই স্মৃতিময় স্থান সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ নেই। যা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক।

অমিয় কুমার গুহের দৌহিত্র্য উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ গুহ জানান, গণকবর সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার হিসেবে আমাদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর অনুরোধ রইলো।

খানসামা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মাত‍ৃভূমিকে হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ৩টি বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেকে খানসামা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জ‍ানাতে এই বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণ ও সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে খানসামা  উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আত্রাই নদীর পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন শেষে উপজেলা সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, এসিল্যান্ড মারুফ হাসান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দিন লুহিন শাহ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ওসি মোজাহারুল ইসলাম, সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ সহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।