সৈয়দপুর ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডোমারে প্রেমিকার বাড়ীতে র‌্যাবের এসআই আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২ ১১ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফজল কাদিরঃ নীলফামারী জেলার ডোমারে বুধবার রাতে উপজেলার আরডিআরএস সংলগ্ন মোজাম্মেল হক ভিলায় দু সন্তানের জননী প্রেমিকা সুমনা আক্তার(৩০) এর সাথে রাত কাটাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মহাবীর নামে একজন র‌্যাবের এসআই।

জানা যায়, মহাবীর ডোমার থানার এসআই হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই নারীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বর্তমানে মহাবীর নায়ারনগঞ্জ র‌্যাব-১১তে কর্মরত । বর্তমানে দুজনকেই ডোমার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুমনা আক্তার দেবীগঞ্জ উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের মোঃ রাজীব হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। অন্যদিকে মহাবীর দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার কেউরাপাড়া রসুলপুর এলাকার কালিমোহন রায়ের ছেলে।

সুমনা আক্তারের মামা শশুর ইসমাইল হোসেন বলেন, সুমনার ছেলে তার দাদার বাসায় ছিল। বুধবার রাত নয়টার পরে আমি সুমনার ছেলেকে তাদের বাড়ীতে পৌছে দেওয়ার জন্য আরডিআরএস সংলগ্ন মোজাম্মেল ভিলায় আসি। দরজা নক করার পর আমার বৌমা দরজা খুলে দেয়। এ সময় আমি তার সন্তানকে তাকে দিয়ে চলে যেতে চাইলে সে চা খেয়ে যেতে বলে। এ সময় পাশের রুমে শব্দ হলে আমি সেই রুমে যেতে চাইলে সুমনা আমাকে সেখানে যেতে বাধা দেয়। এক সময় আমি ঐ রুমে গিয়ে

দেখি একজন পুরুষ মানুষ সেখানে লুকিয়ে রয়েছে। আমাকে দেখে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি তাকে আটক করি। তাকে আটকের পর জানা গেল সে ডোমার থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিল।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার উৎসুক জনতা তাদের এক নজর দেখার জন্য বাড়ীতে ভিড় জমায়। আটককৃত মহাবীর হিন্দু ঘরের সন্তান ও সুমনা আক্তার মুসলমান।

প্রেমিকা সুমনা আক্তার বলেন, ডোমার থানায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগটি তিনি মিমাংসা করে দেওয়ার পর থেকেই তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক থেকে সে আমাকে বিয়ের কথা জানালে আমি তাকে বলি তুমি যে হিন্দু আমাকে কিভাবে বিয়ে করবে। সে সময় সে আমাকে জানায় আমি মুসলমান ধর্ম গ্রহন করে তোমাকে বিয়ে করবো। এরপর থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করি ও আমাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। পুজাঁর ছুটিতে সে বাড়ীতে আসলে বুধবার তার সাথে দেবীগঞ্জে ঘুরার পর রাত নয়টার দিকে আমার বাসায় সে আসে। এর কিছুক্ষন পর আমার মামা শশুর তাকে বাড়ীতে দেখতে পেয়ে আটক করে। তিনি বলেন এ ঘটনার পরে আমার প্রথম স্বামী আমাকে গ্রহন করবেনা।আমি এখন তাকেই বিয়ে করতে চাই।

আটককৃত এসআই মহাবীর প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, বুধবার রাতে সে আমাকে তার বাড়ীতে আসতে বলায় আমি এসেছি। এর আগে আমি কখনো তার বাড়ীতে আসেনি। বাড়ীতে লোক আসায় অন্য ঘরে লুকালেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সুমনা আক্তার আমাকে লুকাতে বলায় আমি বারান্দায় এসে লুকিয়ে ছিলাম।

ডোমার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ এসআই মহাবীর দুই সন্তানের জননীসহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়ে গার্ডিয়ানকে আসতে বললেও তারা কেউ আসেননি। তাছাড়া এখানে মুসলমান-হিন্দুর বিষয় থাকায় আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই থানায় খবর দিলে বৃহস্পতিবার সকালে ডোমার থানা পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

ডোমার থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মাহমুদ উন নবী এসআই মহাবীরসহ এক নারীকে থানায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


ডোমারে প্রেমিকার বাড়ীতে র‌্যাবের এসআই আটক

আপডেট সময় : ১১:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

ফজল কাদিরঃ নীলফামারী জেলার ডোমারে বুধবার রাতে উপজেলার আরডিআরএস সংলগ্ন মোজাম্মেল হক ভিলায় দু সন্তানের জননী প্রেমিকা সুমনা আক্তার(৩০) এর সাথে রাত কাটাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মহাবীর নামে একজন র‌্যাবের এসআই।

জানা যায়, মহাবীর ডোমার থানার এসআই হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই নারীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। বর্তমানে মহাবীর নায়ারনগঞ্জ র‌্যাব-১১তে কর্মরত । বর্তমানে দুজনকেই ডোমার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুমনা আক্তার দেবীগঞ্জ উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের মোঃ রাজীব হোসেনের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। অন্যদিকে মহাবীর দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার কেউরাপাড়া রসুলপুর এলাকার কালিমোহন রায়ের ছেলে।

সুমনা আক্তারের মামা শশুর ইসমাইল হোসেন বলেন, সুমনার ছেলে তার দাদার বাসায় ছিল। বুধবার রাত নয়টার পরে আমি সুমনার ছেলেকে তাদের বাড়ীতে পৌছে দেওয়ার জন্য আরডিআরএস সংলগ্ন মোজাম্মেল ভিলায় আসি। দরজা নক করার পর আমার বৌমা দরজা খুলে দেয়। এ সময় আমি তার সন্তানকে তাকে দিয়ে চলে যেতে চাইলে সে চা খেয়ে যেতে বলে। এ সময় পাশের রুমে শব্দ হলে আমি সেই রুমে যেতে চাইলে সুমনা আমাকে সেখানে যেতে বাধা দেয়। এক সময় আমি ঐ রুমে গিয়ে

দেখি একজন পুরুষ মানুষ সেখানে লুকিয়ে রয়েছে। আমাকে দেখে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি তাকে আটক করি। তাকে আটকের পর জানা গেল সে ডোমার থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিল।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার উৎসুক জনতা তাদের এক নজর দেখার জন্য বাড়ীতে ভিড় জমায়। আটককৃত মহাবীর হিন্দু ঘরের সন্তান ও সুমনা আক্তার মুসলমান।

প্রেমিকা সুমনা আক্তার বলেন, ডোমার থানায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগটি তিনি মিমাংসা করে দেওয়ার পর থেকেই তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক থেকে সে আমাকে বিয়ের কথা জানালে আমি তাকে বলি তুমি যে হিন্দু আমাকে কিভাবে বিয়ে করবে। সে সময় সে আমাকে জানায় আমি মুসলমান ধর্ম গ্রহন করে তোমাকে বিয়ে করবো। এরপর থেকে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করি ও আমাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। পুজাঁর ছুটিতে সে বাড়ীতে আসলে বুধবার তার সাথে দেবীগঞ্জে ঘুরার পর রাত নয়টার দিকে আমার বাসায় সে আসে। এর কিছুক্ষন পর আমার মামা শশুর তাকে বাড়ীতে দেখতে পেয়ে আটক করে। তিনি বলেন এ ঘটনার পরে আমার প্রথম স্বামী আমাকে গ্রহন করবেনা।আমি এখন তাকেই বিয়ে করতে চাই।

আটককৃত এসআই মহাবীর প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, বুধবার রাতে সে আমাকে তার বাড়ীতে আসতে বলায় আমি এসেছি। এর আগে আমি কখনো তার বাড়ীতে আসেনি। বাড়ীতে লোক আসায় অন্য ঘরে লুকালেন কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, সুমনা আক্তার আমাকে লুকাতে বলায় আমি বারান্দায় এসে লুকিয়ে ছিলাম।

ডোমার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ এসআই মহাবীর দুই সন্তানের জননীসহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়ে গার্ডিয়ানকে আসতে বললেও তারা কেউ আসেননি। তাছাড়া এখানে মুসলমান-হিন্দুর বিষয় থাকায় আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই থানায় খবর দিলে বৃহস্পতিবার সকালে ডোমার থানা পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

ডোমার থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মাহমুদ উন নবী এসআই মহাবীরসহ এক নারীকে থানায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে তিনি আর কিছু বলতে চাননি।