সৈয়দপুর ০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের গভর্নিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক

চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবু তাহের, বগুড়া প্রতিনিধিঃ শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এ কে এম নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের গভর্নিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এ কে এম নূরুল ইসলাম শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতি মো. মজিবর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পন্ন মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ যার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি একজন বিদ্যানুরাগী মানুষ। তিনি শেরপুরে নারী শিক্ষা প্রসারের কথা বিবেচনা করে নিজের অর্থায়নে নিজ নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে দুটি দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ করে শেরপুরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্লা ফাযিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ শেরপুরে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার অবদান রয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সভাপতির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

প্রকৃতপক্ষে নুরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি করায় গত ২০১৯ সালের ১০ জুলাই গভর্নিং বডির সভায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তার যোগদানের তারিখ গত ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত ৮ মাসের আর্থিক খাতের তদন্ত করা হয়েছে। সে তদন্তে আয়কৃত টাকার মধ্যে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৯ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের পর গভর্নিং বডির সভায় তাকে ২০২১ সালের ২৬ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি তার জবাব দিলে তা সন্তোষজনক না হওয়ায় গভর্নিং বডির সভায় জবাব গ্রহণ করা হয় না এবং পুনরায় ২০২১ সালের ৮ জুন শোকজ নোটিশ দিলেও তার জবাব সন্তোষজনক হয় না। এরপর জিবির সভাপতি মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার গভর্নিং কমিটির সভা আহ্বান করার জন্য বললেও অধ্যক্ষ সভা আহ্বান না করে রেজ্যুলেশন খাতা, নোটিশ খাতাসহ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তিনি তার বাড়িতে নিয়ে রাখেন।

এসময় কলেজের গভর্নিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুল ইসলাম, বিপ্লব দত্ত, শাহ আলম, জীবন কুমার সরকার, রাশেদা সুলতানা, রুহুল আমিন, আজিজুল হক, আশুতোষ চন্দ্র, রাজু আহম্মেদ, অরুপ কুমার বসাক, মোস্তাফিজার রহমান ও সিরাজুম মনিরসহ প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


বগুড়ায় সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আবু তাহের, বগুড়া প্রতিনিধিঃ শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এ কে এম নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের গভর্নিং কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এ কে এম নূরুল ইসলাম শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতি মো. মজিবর রহমান মজনুর বিরুদ্ধে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পন্ন মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ যার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি একজন বিদ্যানুরাগী মানুষ। তিনি শেরপুরে নারী শিক্ষা প্রসারের কথা বিবেচনা করে নিজের অর্থায়নে নিজ নামে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শেরপুর টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা কলেজও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে দুটি দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণ করে শেরপুরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি উলিপুর আমিরিয়া সমতুল্লা ফাযিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাসহ শেরপুরে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার অবদান রয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সভাপতির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

প্রকৃতপক্ষে নুরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ, সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি করায় গত ২০১৯ সালের ১০ জুলাই গভর্নিং বডির সভায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তার যোগদানের তারিখ গত ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত ৮ মাসের আর্থিক খাতের তদন্ত করা হয়েছে। সে তদন্তে আয়কৃত টাকার মধ্যে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৯ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের পর গভর্নিং বডির সভায় তাকে ২০২১ সালের ২৬ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি তার জবাব দিলে তা সন্তোষজনক না হওয়ায় গভর্নিং বডির সভায় জবাব গ্রহণ করা হয় না এবং পুনরায় ২০২১ সালের ৮ জুন শোকজ নোটিশ দিলেও তার জবাব সন্তোষজনক হয় না। এরপর জিবির সভাপতি মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার গভর্নিং কমিটির সভা আহ্বান করার জন্য বললেও অধ্যক্ষ সভা আহ্বান না করে রেজ্যুলেশন খাতা, নোটিশ খাতাসহ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তিনি তার বাড়িতে নিয়ে রাখেন।

এসময় কলেজের গভর্নিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুল ইসলাম, বিপ্লব দত্ত, শাহ আলম, জীবন কুমার সরকার, রাশেদা সুলতানা, রুহুল আমিন, আজিজুল হক, আশুতোষ চন্দ্র, রাজু আহম্মেদ, অরুপ কুমার বসাক, মোস্তাফিজার রহমান ও সিরাজুম মনিরসহ প্রমুখ।