সৈয়দপুর ০৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হয়রানীর শিকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মারুফ হোসেন লিয়ন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: কোন মেয়েকে রাস্তায় দেখলেন, পছন্দ হয়ে গেলো কোনো মেয়েকে স্কুলে বা কোচিং এ দেখলেন পছন্দ হয়ে গেলো কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছেন না? আপনার সেই না বলা কথা বলার জন্য আছে ‘ সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন ও ক্রাশ এন্ড কনফেশন সৈয়দপুর, সৈয়দপুর ক্রাশ এন্ড কনফেশন নামের কয়েকটি ফেসবুক পেজ। ঠিক এরকম ধারনা নিয়েই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ছবি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির করা কনফেশনগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই পেজটি। আর এতে করে ছবি ও ফেসবুক আইডি প্রকাশ হওয়া ছাত্র ছাত্রীরা পড়ছেন বিপাকে। ছবি এভাবে অনুমতি না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার কারনে ইভটিজিং থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন নারীরা। অনেকেই বলছেন, এই পেজের দ্বারা ভার্চুয়াল টিজিং এর স্বীকার হচ্ছেন সৈয়দপুরের শিক্ষার্থীরা ।

একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কোন ছেলে বা মেয়ের ছবি ও ফেসবুক আইডির নাম কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম শ্রেণি দিয়ে এই পেজে কয়েক লাইন কনফেশন লিখে দিলে তারা সেটা পোস্ট দেয়, আর এভাবে ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ফলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকছে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিক্ষার্থী বলেন, কিছুদিন আগে ওই পেজ থেকে তাঁর নাম ও ছবি সহ কনফেশন পোস্ট করা হয়। তারপর থেকেই রাস্তাঘাটে নানাভাবে উত্যক্তের স্বীকার হচ্ছে। তাছাড়া পরিবারেও আমাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, এই পেজগুলোর এই ধরনের কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

এরুপ পরিস্থিতির স্বিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, বেশ কয়েকবার আমার নাম কনফেশন এসেছে। বিশেষ করে কয়েকবার ছবি দিয়ে এসেছে। বিষয়টা খুবই বাজে। এভাবে অন্যের ছবি অনুমতি ছাড়া পাবলিকলি শেয়ার করা এটা কোনভাবেই ঠিক না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ছবি ও তাদের নাম আইডির নাম পোস্ট হওয়ার পর তারা নিজেদের পরিবারেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন যা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

সত্যতা যাচাই করতে ফেসবুকে উল্লিখিত নামে সার্চ দিয়ে পেজটি দেখা মিললো পেজ গুলোর তাতে সৈয়দপুরের ছাত্র-ছাত্রীর ও তরুণ তরুণীদের ছবিসহ তার সম্পর্কে তথ্য বা তাকে ভালো লাগার কারণ বা প্রেম করতে চাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়। যে কেউ ফেক আইডি ব্যবহার করেও ছবিসহ তথ্য সরবরাহ করলেই মুহূর্তেই তা প্রকাশ করা হয়। যা পৌঁছে যায় ফলোয়ারদের নিউজফিডে। তবে কে এই তথ্য দিলো তার কোনো পরিচয় সেখানে উল্লেখ করা হয় না। এমনকি পোস্ট দেওয়ার পর ভুক্তভোগী (যার নামে পোস্ট করা হয়) যদি পেজের অ্যাডমিনদের কাছে ম্যাসেজ করে তথ্য চান, তবুও তাকে কোনো তথ্যই দেওয়া হয় না। অনেক ছাত্রী এ ব্যাপারে আপত্তি তুললেই বেশিরভাগই লোক-লজ্জার ভয়ে এড়িয়ে যান। ফলে ক্রমেই বাড়ছে এ অপরাধ প্রবণতা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন পেজে বিভিন্ন ছেলে-মেয়ের নামে এখন পর্যন্ত ২৯৪ টি ও সৈয়দপুর ক্রাশ এন্ড কনফেশন ৯৪ টি এবং ক্রাশ এন্ড কনফেশন ২৭ টি কনফেশন পোস্ট করা হয়েছে, যারা সৈয়দপুরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাএ ছাত্রী । এসব ছবি প্রকাশ করায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট করে থাকে কেউ কেউ আবার কমেন্টে ভুক্তভোগীর আইডি উল্লেখ করে বাজে কমেন্ট করে ।

এ ব্যাপারে কথা হয় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেনের সাথে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের পেজ চালিয়ে সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরী করা হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের সমাজে মেয়েরা নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় একটা চিন্তার মধ্যে থাকে, তার মধ্যে এভাবে যদি মেয়েদের ছবি ফেসবুক আইডি নাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে সেটা তাদের নিরাপত্তার জন্য একটা বিরাট হুমকি। এই সকল পেইজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এবিষয়ে মোঃ মারুফ হোসেন লিয়ন পেজগুলোর এডমিনকে মেসেজ দিয়ে পেজগুলো বন্ধ করার কথা বললে সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন এডমিন বলেন আপনার যা ইচ্ছে আপনি করতে পারেন আমি পেজ ডিলিট করবো না আপনি একজন রিপোর্টার হয়ে আমার কি করতে পারেন আমি দেখবো ? আপনার যা ইচ্ছে করেন আমাদের নামে

এমতাবস্থায় সচেতন মহল এই ভার্চুয়াল অনাচার থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুততম সময়ে উল্লেখিত ফেসবুক পেজ গুলোর ব্যাপারে প্রশাসন ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। নয়তো এই অনৈতিক কারবার অব্যাহত থাকলে চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনভিপ্রেত ঘটনার কবলে পড়তে হতে পারে সৈয়দপুরবাসীকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


সৈয়দপুরে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হয়রানীর শিকার

আপডেট সময় : ১২:২৪:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোঃ মারুফ হোসেন লিয়ন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: কোন মেয়েকে রাস্তায় দেখলেন, পছন্দ হয়ে গেলো কোনো মেয়েকে স্কুলে বা কোচিং এ দেখলেন পছন্দ হয়ে গেলো কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছেন না? আপনার সেই না বলা কথা বলার জন্য আছে ‘ সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন ও ক্রাশ এন্ড কনফেশন সৈয়দপুর, সৈয়দপুর ক্রাশ এন্ড কনফেশন নামের কয়েকটি ফেসবুক পেজ। ঠিক এরকম ধারনা নিয়েই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ছবি নিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির করা কনফেশনগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই পেজটি। আর এতে করে ছবি ও ফেসবুক আইডি প্রকাশ হওয়া ছাত্র ছাত্রীরা পড়ছেন বিপাকে। ছবি এভাবে অনুমতি না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবার কারনে ইভটিজিং থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন নারীরা। অনেকেই বলছেন, এই পেজের দ্বারা ভার্চুয়াল টিজিং এর স্বীকার হচ্ছেন সৈয়দপুরের শিক্ষার্থীরা ।

একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, যে কোন ছেলে বা মেয়ের ছবি ও ফেসবুক আইডির নাম কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম শ্রেণি দিয়ে এই পেজে কয়েক লাইন কনফেশন লিখে দিলে তারা সেটা পোস্ট দেয়, আর এভাবে ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ফলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকছে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিক্ষার্থী বলেন, কিছুদিন আগে ওই পেজ থেকে তাঁর নাম ও ছবি সহ কনফেশন পোস্ট করা হয়। তারপর থেকেই রাস্তাঘাটে নানাভাবে উত্যক্তের স্বীকার হচ্ছে। তাছাড়া পরিবারেও আমাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, এই পেজগুলোর এই ধরনের কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

এরুপ পরিস্থিতির স্বিকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, বেশ কয়েকবার আমার নাম কনফেশন এসেছে। বিশেষ করে কয়েকবার ছবি দিয়ে এসেছে। বিষয়টা খুবই বাজে। এভাবে অন্যের ছবি অনুমতি ছাড়া পাবলিকলি শেয়ার করা এটা কোনভাবেই ঠিক না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ছবি ও তাদের নাম আইডির নাম পোস্ট হওয়ার পর তারা নিজেদের পরিবারেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন যা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

সত্যতা যাচাই করতে ফেসবুকে উল্লিখিত নামে সার্চ দিয়ে পেজটি দেখা মিললো পেজ গুলোর তাতে সৈয়দপুরের ছাত্র-ছাত্রীর ও তরুণ তরুণীদের ছবিসহ তার সম্পর্কে তথ্য বা তাকে ভালো লাগার কারণ বা প্রেম করতে চাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়। যে কেউ ফেক আইডি ব্যবহার করেও ছবিসহ তথ্য সরবরাহ করলেই মুহূর্তেই তা প্রকাশ করা হয়। যা পৌঁছে যায় ফলোয়ারদের নিউজফিডে। তবে কে এই তথ্য দিলো তার কোনো পরিচয় সেখানে উল্লেখ করা হয় না। এমনকি পোস্ট দেওয়ার পর ভুক্তভোগী (যার নামে পোস্ট করা হয়) যদি পেজের অ্যাডমিনদের কাছে ম্যাসেজ করে তথ্য চান, তবুও তাকে কোনো তথ্যই দেওয়া হয় না। অনেক ছাত্রী এ ব্যাপারে আপত্তি তুললেই বেশিরভাগই লোক-লজ্জার ভয়ে এড়িয়ে যান। ফলে ক্রমেই বাড়ছে এ অপরাধ প্রবণতা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন পেজে বিভিন্ন ছেলে-মেয়ের নামে এখন পর্যন্ত ২৯৪ টি ও সৈয়দপুর ক্রাশ এন্ড কনফেশন ৯৪ টি এবং ক্রাশ এন্ড কনফেশন ২৭ টি কনফেশন পোস্ট করা হয়েছে, যারা সৈয়দপুরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাএ ছাত্রী । এসব ছবি প্রকাশ করায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট করে থাকে কেউ কেউ আবার কমেন্টে ভুক্তভোগীর আইডি উল্লেখ করে বাজে কমেন্ট করে ।

এ ব্যাপারে কথা হয় সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেনের সাথে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের পেজ চালিয়ে সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরী করা হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের সমাজে মেয়েরা নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় একটা চিন্তার মধ্যে থাকে, তার মধ্যে এভাবে যদি মেয়েদের ছবি ফেসবুক আইডি নাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে সেটা তাদের নিরাপত্তার জন্য একটা বিরাট হুমকি। এই সকল পেইজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এবিষয়ে মোঃ মারুফ হোসেন লিয়ন পেজগুলোর এডমিনকে মেসেজ দিয়ে পেজগুলো বন্ধ করার কথা বললে সৈয়দপুর অল স্কুল এন্ড কলেজ ক্রাশ এন্ড কনফেশন এডমিন বলেন আপনার যা ইচ্ছে আপনি করতে পারেন আমি পেজ ডিলিট করবো না আপনি একজন রিপোর্টার হয়ে আমার কি করতে পারেন আমি দেখবো ? আপনার যা ইচ্ছে করেন আমাদের নামে

এমতাবস্থায় সচেতন মহল এই ভার্চুয়াল অনাচার থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুততম সময়ে উল্লেখিত ফেসবুক পেজ গুলোর ব্যাপারে প্রশাসন ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। নয়তো এই অনৈতিক কারবার অব্যাহত থাকলে চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনভিপ্রেত ঘটনার কবলে পড়তে হতে পারে সৈয়দপুরবাসীকে।