সৈয়দপুর ১২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চনাঃ থানায় জিডি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২ ১৮ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ ও ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার কর্তৃক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলামকে শারীরিক লাঞ্চিত সহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ডিমলায় জেল হত্যা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে এই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিতের ঘটনায় রাত ৯টায় ডিমলা থানায় প্রত্যক্ষ দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫থেকে ২০জনকে বিবাদী করে থানায় জিডি করা হয়। এঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, জেল হত্যা দিবস পালনে ডিমলা উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয়

কার্যালয়ে জাতীয় সংগীত, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন ও বিজয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি নেয়া হয়। এ জন্য দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জোড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলীয় অফিসে আসেন আওয়ামীলীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব শত্রতার জের ও রাজনৈতিক আক্রোশেই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ বীরমুক্তিযোদ্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলামকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজসহ ধাক্কা ধাক্কি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালালে ফেরদৌস পারভেজের লোকজন জেলা হত্যা দিবসের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম বলেন, জেলহত্যা দিবসে উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসে যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার আমাকে পতাকা উত্তোলন করতে দিবে না বলে জানায় এবং রাজাকার বলে গালিও দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কয়েকবার ধাক্কা দেয়। আমি বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এজন্য রাতেই ডিমলা থানায়

একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। ডায়েরি নং ১৩৬, তারিখ- ০৩/১১/২০২২ইং।

যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ বলেন, গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মমতাজুল হকের বিরুদ্ধে এই উপজেলা চেয়ারম্যান ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন।

জেলা পরিষদের নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরোধিতাকারী আজ তিনি জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছেন। আমরা এর বিরোধিতা করেছি। এসময় ছাত্রলীগসহ দলের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আজ শুক্রবার বিকালে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা জরুরী বৈঠকের আহবান করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চনাঃ থানায় জিডি

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ ও ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার কর্তৃক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলামকে শারীরিক লাঞ্চিত সহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ডিমলায় জেল হত্যা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে এই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিতের ঘটনায় রাত ৯টায় ডিমলা থানায় প্রত্যক্ষ দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫থেকে ২০জনকে বিবাদী করে থানায় জিডি করা হয়। এঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, জেল হত্যা দিবস পালনে ডিমলা উপজেলা আওয়ামীলীগ দলীয়

কার্যালয়ে জাতীয় সংগীত, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন ও বিজয় চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি নেয়া হয়। এ জন্য দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জোড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলীয় অফিসে আসেন আওয়ামীলীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ডিমলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব শত্রতার জের ও রাজনৈতিক আক্রোশেই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ বীরমুক্তিযোদ্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলামকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজসহ ধাক্কা ধাক্কি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালালে ফেরদৌস পারভেজের লোকজন জেলা হত্যা দিবসের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম বলেন, জেলহত্যা দিবসে উপজেলা আওয়ামীলীগ অফিসে যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সায়েম সরকার আমাকে পতাকা উত্তোলন করতে দিবে না বলে জানায় এবং রাজাকার বলে গালিও দেয়। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে কয়েকবার ধাক্কা দেয়। আমি বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এজন্য রাতেই ডিমলা থানায়

একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। ডায়েরি নং ১৩৬, তারিখ- ০৩/১১/২০২২ইং।

যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ বলেন, গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মমতাজুল হকের বিরুদ্ধে এই উপজেলা চেয়ারম্যান ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন।

জেলা পরিষদের নির্বাচনে সরাসরি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরোধিতাকারী আজ তিনি জেলহত্যা দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলনসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছেন। আমরা এর বিরোধিতা করেছি। এসময় ছাত্রলীগসহ দলের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাতে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আজ শুক্রবার বিকালে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা জরুরী বৈঠকের আহবান করেছে।