দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হলেন বৃষ্টি
- আপডেট সময় : ০১:৫২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

অনলাইনঃ নিজ গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৬)। আজ শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর কান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। পরে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন। এ সময় শোকাহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ বহনকারী ফ্রিজিং গাড়ি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। গ্রামের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে বৃষ্টির মরদেহবাহী কফিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন তার মা-বাবা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, ঢাকার নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পান। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পূর্ণ বৃত্তিতে পিএইচডির সুযোগ পেয়ে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন তিনি ও জামিল আহমেদ লিমন। লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর বৃষ্টি ও লিমনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সি ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত এই দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।






.gif)
















