বুড়ি তিস্তা ঘিরে ডিমলায় উত্তেজনাঃ আনসার ক্যাম্প ভাংচুর
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ফজল কাদিরঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বুড়ি তিস্তা জলাধার খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কুটিরডাঙ্গা এলাকাবাসীদেন সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর ঠিকাদারদের বিরোধে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীরা এ সময় সেখানে পাহাড়ায় নিযুক্ত আনসার বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তেজিত এলাকাবাসী আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতে আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে হামলাকারীরা সাংবাদিকদের কেও ধাওয়া করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুটিরডাঙ্গা এলাকাবাসী বুড়িতিস্তা জলাধার খননের তিন ফসলি জমি তাদের পৈতৃক সম্পক্তি দাবি করছে। অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ওই সকল জমি তাদের অধিগ্রহণ করা। যার মালিকানা জমির খাজনা সব পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে রাজস্ব দিয়ে আসছে। এলাকাবাসী বলছে জমির ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তিন ফসলি জমিতে খনন কাজ শুরু করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। বিক্ষুব্ধ লোকজনের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীদের নিয়ে গঠিত ‘জনগোষ্ঠী’ নামের সংগঠনের মুখপাত্র মো. আব্দুল আলিম জানান, সাবেক প্রধান মন্ত্রী ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশে রাস্ট্রীয় শোক পালন চলছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদাররা এটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বুড়ি তিস্তা নদী খননের নামে এলাকাবাসীকে উত্তেজিত করতে শোক পালন না করে মাঠে নেমেছিল। যা এলাকাবাসী বাঁধা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় উত্তেজিত এলাবাসী ওই প্রকল্পে দায়িত্বে থানা আনসার বাহিনীর ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকও রয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, রাস্ট্রীয় শোকে ঠিকাদাররা কেন খনন করতে গেলেন বিষয়টি দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনাটি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘দেশে রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় আগামী তিন দিন খনন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন কাজ শুরু করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে হবে। তিনি এ বিষয়ে কুটিরডাঙ্গা বাসীকে শান্ত থাকার জন্য আ হবান জানিয়েছেন।







.gif)









