সৈয়দপুর ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে প্রাণহানির দায়ে ইউনূস-নূরজাহানের বিচারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
চোখ২৪.নেট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেস্ক রিপোর্টঃ দেশে জুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

গতকাল বুধবার (৬ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রসংগঠনটি।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাবেক প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অসংখ্য শিশুর প্রাণহানির জন্য তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দায়ী। তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার জোরালোভাবে দাবী করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এসময় বক্তারা হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে জরুরি ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, নিজেদের মুনাফার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার অবুঝ শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, এই অপরাধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এটিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হামের ভয়াবহতা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখেছি, না বর্তমান সরকারের সময় দেখছি। বরং মনে হচ্ছে, তারা যেন অপেক্ষা করছে, আর কত শত প্রাণ ঝরে যাবে, কত শিশুর জীবন বিনষ্ট হবে। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর ঘটনায় ডাকসু নেতাদের সমালোচনাও করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, সরকারী তথ্য মতে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। রাস্তায় রাস্তায়, মেডিক্যালের সামনে, হাসপাতালের দরজায় দরজায় শিশুদের অভিভাবক, মা-বাবার আহাজারি আর কান্না এখনো দেখা যায়। সে সময় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারপ্রধান সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জাপানে গিয়ে জাপানি শিশুদের সঙ্গে পুষ্প বিনিময় করেছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, সুন্দর আগামীর জন্য জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। আর সেই আগামী আমাদের শিশুরা। আর আজ হামের কাছে অসহায় শিশুরা। হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য


হামে প্রাণহানির দায়ে ইউনূস-নূরজাহানের বিচারের দাবিতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্টঃ দেশে জুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।

গতকাল বুধবার (৬ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রসংগঠনটি।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাবেক প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অসংখ্য শিশুর প্রাণহানির জন্য তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দায়ী। তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার জোরালোভাবে দাবী করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এসময় বক্তারা হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে জরুরি ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, নিজেদের মুনাফার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার অবুঝ শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, এই অপরাধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এটিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হামের ভয়াবহতা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখেছি, না বর্তমান সরকারের সময় দেখছি। বরং মনে হচ্ছে, তারা যেন অপেক্ষা করছে, আর কত শত প্রাণ ঝরে যাবে, কত শিশুর জীবন বিনষ্ট হবে। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর ঘটনায় ডাকসু নেতাদের সমালোচনাও করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, সরকারী তথ্য মতে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। রাস্তায় রাস্তায়, মেডিক্যালের সামনে, হাসপাতালের দরজায় দরজায় শিশুদের অভিভাবক, মা-বাবার আহাজারি আর কান্না এখনো দেখা যায়। সে সময় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারপ্রধান সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জাপানে গিয়ে জাপানি শিশুদের সঙ্গে পুষ্প বিনিময় করেছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, সুন্দর আগামীর জন্য জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। আর সেই আগামী আমাদের শিশুরা। আর আজ হামের কাছে অসহায় শিশুরা। হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট।